বাংলাদেশি দুইটি সামাজিক নেটওয়ার্ক

আসসালামু আলাইকুম। আমরা বেশিরভাগ বাঙালিরা প্রতিদিনই ফেসবুকে কমপক্ষে একবার হলেও প্রবেশ করি। কিন্তু ফেসবুকের পাশাপাশি অন্য সামাজিক যোগাযোগ সম্পর্কে আমাদের তেমন ধারণা নেই। টুইটার, গুগল প্লাস আর বড়জোর মাইস্পেস পর্যন্ত চিনে বেশিরভাগ বাঙালি। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেনা আমাদের নিজের দেশের সামাজিক নেটওয়ার্কগুলো সম্বন্ধে।
আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক নেটওয়ার্ক হলো বেশতো
বেশতো-র সাথে ফেসবুকের কোন মিলই নেই বলা যেতে পারে। এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটির সাথে টুইটারের কিছু মিল আছে। এটিও টুইটারের মত মাইক্রোব্লগিং সাইট। অনধিক ২৫০ বর্ণে পোস্ট করতে হবে।


এই সামাজিক নেটওয়ার্কটি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড না। শুধুমাত্র বাংলা ভাষাভাষীদের জন্যই তৈরি হয়েছে। বর্তমানে এই মাধ্যমটি খুবই বাংলাভাষীদের মাঝে খু্ব জনপ্রিয়। এর যাত্রা শুরু হয় ২০১২ সালে।এর শুরুটা ছিল দুটি সার্ভিসের মাধ্যমে- মাইক্রোব্লগ এবং প্রশ্ন । মাইক্রোব্লগের মাধ্যমে ইউজাররা যেমন জম্পেশ আড্ডা জমান তেমনি প্রশ্ন-উত্তরের মাধ্যমে জানতে পারেন নানা অজানা তথ্য।
২০১৩ সালে বেশতো তার ঝুলিতে আর অনেক অনেক বিস্ময়ের সাথে নতুনরূপে নিজেকে সাজিয়েছে আর এরই মধ্যে তা অনেক বেশি উপভোগ্য হয়ে উঠেছে আমাদের বিনোদনের জন্য ।
এখন আমরা শুধু জম্পেশ আড্ডা আর প্রশ্ন-উত্তরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নই, আমরা আমাদের নিজেদের বিভিন্ন চিন্তা-ভাবনার, হাসি-আনন্দের সহ যেকোনো কিছুর বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারি আর সেই সাথে সকলের সাথে প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদান করতে পারি নতুন কিছু ফিচারের মাধ্যমে।
প্রথমেই বলি নতুন ফিচার ফটো নিয়ে, এখানে আপনার নিজের তোলা বা সংগ্রহে আছে এমন অথবা কোন ফটোগ্রাফারের তোলা ছবি শেয়ার করতে পারবেন, চাইলে ছবি সংক্রান্ত কিছু বর্ণনা এবং ছবির সাথে যায় এমন কিছু স্টার ওয়ার্ড সহ পোস্ট করতে পারেন।

বেশতো জোকস

জোকস শুনেই খানিক আন্দাজ করতে পারছেন নিশ্চয়ই! তবুও বলছি ওই আগের মতই যেকোনো জোকস লিখে, সাথে ছবি আপলোড এবং স্টার ওয়ার্ড লিখে পোস্ট করে দিলেই হয়ে গেল। ব্যস, এতটুকু করেই হয়তো নেটে বসে থাকা আপনার কোন ফলোয়ারকে হাসির খোরাক দিতে পারবেন, নিঃসন্দেহে।

বেশতো খবর

তারপর আসি খবরের কথায়, এখানে অনলাইনে পঠিত কোন খবর যদি আপনি আপনার ফলোয়ারদের জানাতে চান তাহলে আপনাকে সেই খবরটির লিংক দিতে হবে, চাইলে আপনি খবরটির সাথে যায় সেরকম কোন স্টার ওয়ার্ড লিখে পোস্ট করতে পারেন।

বেশতো সাক্ষী

সবচেয়ে মৌলিক ও অন্যতম নতুন ফিচারটি হল সাক্ষী। এখানে চোখের সামনে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার বা অনিয়মের বর্ণনা দিবেন আপনি ছবিসহ। পথেঘাটে চলতে কতকিছুই না আমাদের চোখে পড়ে যা হয়ত অনেকেরই চক্ষুগোচর হয় না, আমরা সাক্ষীতে নিজেদের পোস্টের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে পারি।

বেশতো শপিং

এখন পর্যন্ত সবশেষ ফিচারটি হল শপিং, লোমহর্ষকও বটে! কোন অনলাইন শপিং সাইট থেকে কোন তথ্য যদি আপনি আপনার ফলোয়ারদের জানাতে চান তাহলে ওই সাইটের উক্ত পন্যের তথ্য বিষয়ক লিংকটি এবং মুল্য লিখুন। তথ্যটি সম্পর্কিত এবং এ-বিষয়ক স্টার ওয়ার্ড লিখে সরাসরি পোস্ট করুন, সাথে ছবি আপলোড তো থাকছেই।
এই হল সংক্ষেপে বেশতো। আর পোস্ট আর প্রশ্ন নিয়ে কি বলব! বেশতো-র মূল ফিচারই এটা। এখানে আপনি টুইটারের মত অনধিক ২৫০ বর্ণে সবকিছু লিখতে হবে।
 
আশা করি বুঝতেই পারছেন কেন বেশতো ফেসবুক থেকে একেবারেই আলাদা। কিছুদিন থাকলেই বেশতোর মজা বুঝবেন।
আর একটি বাংলাদেশী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হলো তুমি আমি।  সাইটটি নতুন। ডিজাইন খুব একটা ইউজার ফ্রেন্ডলি না। তবে ফিচারগুলো বেশ ভালো। কিছুদিন থাকলেই খারাপ লাগবে না সাইটটি।
তুমি আমি'র কিছু ফিচার
পয়েন্ট : পয়েন্ট আপনার প্রোফাইল কে শীর্ষে নিয়ে যাবে, তুমি-আমি'র এই পয়েন্ট পদ্ধতি একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রাণ এবং এটি আপনার কার্যক্রমের উপর ভিত্তি করে বাড়ে, যেমন আপনি লগিন করেছেন, ফটো, ব্লগ অথবা প্রোফাইলে কমেন্ট করেছেন, এটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনাকে পয়েন্ট দিবে, এটা আপনাকে শীর্ষতালিকায় নিয়ে যে তালিকা কে তুমি-আমি'তে পয়েন্ট লিডারের নাম দেয়া হয়েছে ।
অনলাইনে বন্ধুদের সাথে মিলনমেলা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম : তুমি-আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সম্পুর্ন ফ্রী । এবং এটা সবসময় ফ্রী থাকবে । আমরা কখনই নোটিস বা ইমেইল এর মাধ্যমে আপনার ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চাইবো না । আপনি এখানে তুমি-আমি ব্যবহারকারিদের সাথে চ্যাট করতে পারবেন । আপনার বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন, যারা বন্ধু নয় তাদেরকেও এড করে ভিডিও, অডিও অথবা মেসেজে কথা বলতে পারবেন যদি দুজনই রাজি থাকেন ।

তুমি-আমি দিচ্ছে অফঅলাইনে থাকা বন্ধুদের ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগের সুযোগ ।
ভিডিও কমেন্ট : আপনি তুমি-আমি'র যেকোনো ফিচারে ভিডিও কমেন্ট করতে পারবেন যদি আপনার ডুয়েল ক্যামেরাওয়ালা ফোন, লেপটপ, অথবা ওয়েব ক্যামেরা থাকে কম্পিউটারে । ঠিক সেইভাবেই সেটি যাবে যেভাবে আপনি পাঠাবেন ।

"ভিডিও কমেন্ট" নামে একটি বাটন দেখতে পাবেন ব্যবহারকারির প্রোফাইল, ব্লগ কমেন্ট অথবা অন্নান্য জায়গায় ।
ফ্রী অনলাইন মার্কেটিং ওয়েবসাইট : আপনার কি কোনো নিজস্ব ওয়েবসাইট আছে? আপনি কি বিশ্বজুড়ে মানুষের কাছে পন্য বিক্রি করছেন বা কোনো সেবা প্রধান করছেন? আপনি কি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মার্কেটিং পদ্ধতি জানেন? তাহলে আপনাকে অবশ্যই তুমি-আমি'কে আপনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর মধ্যে রাখতে হবে, ওয়েবসাইট মালিকদের জন্য তুমি-আমি'তে অনেক সহজে মার্কেটিং এর সুযোগ রয়েছে । যেখানে আপনি আপনার ওয়েবসাইটের লিঙ্ক, বর্ণনা প্রকাশ করতে পারবেন যা সবাই দেখতে পারবে, তাও বিনামূল্যে ।

এছাড়াও আপনি পাচ্ছেন ফ্রী গ্রুপ বানানো, ব্লগ বানানো, ভিডিও আপলোড, ইভেন্ট বানানো, ফোরাম বানানো, আপনার পন্য বিক্রির সুবিধা অথবা ফ্রী বিজ্ঞাপন দেয়ার মত সুবিধা, একদন বিনা খরচে ।


শেয়ার করুন

লেখকঃ

আমি তাহমিদ হাসান মুত্তাকী। আমি ব্লগিং ভালোবাসি তাই ব্লগিং করি!

পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট