বিজ্ঞানিদের সংক্ষিপ্ত জীবনকথা। এরিষ্টটল ( পর্ব ২ )

বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীদের জীবনকথা ও তাদের আবিষ্কার নিয়ে ৫০ টি সংক্ষিপ্ত পর্ব লিখব বলে ঠিক করেছি। আমাদের বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষার্থী বন্ধুদের বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি এবং তাদেরকে অনুপ্রাণিত করাই আমার এই লেখনির লক্ষ্য। আজকে সিরিজের ২য় পর্ব এবং আজকে যার সম্পর্কে লিখব তার নাম এরিষ্টটল।

এরিষ্টটলের নাম শুনেনি এমন মানুষ খুজে পাওয়া দুষ্কর। এই বিখ্যাত দার্শনিক ও বিজ্ঞানীর জন্ম ইজিয়ান সাগরের উত্তর-পশ্চিম তীরের চেলিসিডিয়াম নামক নগররাষ্ট্রের স্টেজিরা শহরে। এরিষ্টটলের জন্ম হয় ৩৮৫ খ্রিঃপূর্বে। বাবার নাম নিকোমাখুস।

মোটামোটি অভিজাত পরিবারে জন্মগ্রহণ করার সুবাধে ছোটবেলা থেকেই সংস্কৃতি চর্চা শুরু করেন এবং অল্প বয়সেই অংক, বিজ্ঞান, ইতিহাস, দর্শন প্রভৃতি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেন। কিশোর এরিষ্টটলের মধ্যে কিছু রহস্যময়তা লক্ষ্য করা যায়। তিনি মাঝে মধ্যেই ইজিয়ান সাগরের তীরে বসে ভাবালু দৃষ্টিতে আকাশের দিকে তাকিয়ে কাল্পনিক চোখে নিজের ভবিষ্যতের ছবি আকতে থাকেন। তার স্বপ্ন ছিলো এই জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কাটাবেন সাধনায়।

 বই পড়া এরিষ্টটলের নেশা ছিল। তখন রাজধানী এথেন্স ছিলো জ্ঞান-বিজ্ঞানের পীঠভূমি। ১৭ বছর বয়সে তিনি এথেন্সে চলে আসেন নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে।

মহাজ্ঞানী সক্রেটিসের সেরা ছাত্র প্লেটোর সানিধ্যে এরিষ্টটল ছিলেন দীর্ঘ ২০ বছর। এর মধ্যে এরিষ্টটল সাহিত্য,দর্শন,রাজনিতী,অংক,জোত্যিসবিজ্ঞান,উদ্ভিদবিজ্ঞান,প্রাণীবিজ্ঞান,সমুদ্রবিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে দক্ষ প্রতিভার পরিচয় দেন। তার এই প্রতিভার খ্যাতি ৩৭ বছর বয়সেই ছড়িয়ে পড়ে।

প্লেটোর মৃত্যুর পর এরিষ্টটল এথেন্স থেকে চলে আসেন এশিয়ার মাইনর অন্তগর্ত আত্যতনিউজ শহরে তার বন্ধু হেরমিয়ার বাড়িতে। হেরমিয়ার বোন কুথিকে তিনি বিয়ে করেন।

৩ বছর পির এরিষ্টটল রাজা ফিলিপের পুত্র আলেকজেন্ডারকে ছাত্র হিসেবে পান। মাত্র ৭ বছরেই এরিষ্টটল আলেকজেন্ডারকে উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলেন।

ম্যসোডেনিয়ার রাজা ফিলিপের মৃত্যুর পর আলেকজেন্ডার সিংহাসনে বসেন। আলেকজেন্ডার প্রকৃতি বিষয়ক এন্সাইক্লোপেডিয়া তৈরীর জন্য ১ হাজার গবেষককে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠিয়ে হাতে-কলমে পরীক্ষার জন্য। তাদের প্রেরিত নমুনা এরিষ্টটল পরিক্ষা করে ৫০০ প্রজাতির জীবের প্রজাতির গঠন ও তাদের প্রজনন পদ্ধতি নিয়ে এন্সাইক্লোপেডিয়া প্রকাশ করেন। এটিই ছিল বিশ্বের প্রথম এন্সাইক্লোপেডিয়া।

এরিষ্টটলের রচিত মোট বইয়ের সংখ্যা ছিল ১ হাজার । কিন্তু আমাদের দূর্ভাগ্য তার অধিকাংশ বই ই কালের গর্ভে বিলিন হয়ে গিয়েছে।
এই মহাজ্ঞানী ৩২২ খ্রিঃ পূর্বে ইউবাকার মালিসিন শহরে মৃত্যুবরণ করেন।

শেয়ার করুন

লেখকঃ

পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট