তিন গোয়েন্দা রিভিউ (পর্ব-৮): রত্নদানো রিভিউ+পিডিএফ

আসসালামু আলাইকুম। আশা করি ভালো আছেন। আমি অবশ্য তেমন ভালো নেই। কারণ-
শনি, সোম, বুধ: সকাল ৮ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা
রবি, মঙ্গল, বৃহস্পতি: সকাল ৭টা-৯টা+ বেলা ১২টা থেকে বিকাল ৫টা
ভরকে যাবেন না। এটা আমার স্কুল, প্রাইভেট, কোচিংএর সময়। বলেন তো এসবের জ্বালায় ভালো থাকা সম্ভব? রাতেও বাড়িতে পড়া একটু তো থাকেই। তাই লেখার সময় পাই না। গত পর্বে আমি বলেছিলাম, এখন থেকে নিয়মিত লেখার চেষ্টা করবো। আর তাই যতটুকু সময় পাই লিখি। কিন্তু আসলে নিয়মিত লেখা সম্ভব হয়ে উঠছে না। সেজন্য দুঃখিত। বইটি ডাউনলোড করে পড়তে চাইলে জাস্ট পাশের ছবিতে ক্লিক করুন। তো এখন মূল রিভিউ শুরু করি। আমার রিভিউয়ে গল্পের সারসংক্ষেপ প্রথমে তুলে ধরার চেষ্টা করবো। তারপর আমার মতামত।
পোস্ট খারাপ লাগলে মন্তব্য করবেন পোস্টের কোন অংশটা আরো উন্নতি করতে হবে। আর কেন ভালো লাগেনি। আর ভালো লাগলে অবশ্যই সেটাও মন্তব্যে জানাবেন। আপনি যদি অসংখ্য গালি দিয়েও আমাকে একটা ছোট্ট উপদেশ দেন তাও সেটা আমার জন্য লাভজনক হবে ভবিষ্যৎ উন্নতির জন্য। তাই অনুগ্রহ করে পোস্ট সম্পূর্ণ পড়ে এই পোস্ট সম্বন্ধে মন্তব্য করবেন।

রেইনবো জুয়েলস, কিশোরের করা বাংলায় রংধনু রত্নহার। খুবই দামী আর সুন্দর একটা রত্নের প্রদর্শনী চলছে পিটারসেন মিউজিয়ামে। জাপানী সুকিমুচি জুয়েলার্স প্রদর্শনীর আয়োজক। কিশোর পাশা জানালো চিন্তিত নেকলেসটা কিভাবে চুরি করবে তা নিয়ে। কিশোরের কথা শুনে ভরকে গেলো দুই সহকারী। কিশোর সহজ গলায় আশ্বস্ত করলো অনেকদিন কেস না পাওয়াই ব্রেনকে চালু রাখতে ভেবে বের করবে সেটা চুরি করা কিভাবে সম্ভব। সেটা জানলে ভবিষ্যতে চোর-ডাকাত ধরতে সুবিধা হবে। কিন্তু কড়া পাহাড়ায় রাখা হয়েছে সেটি। সিসি ক্যামেরা, পিস্তলধারী পাহাড়াদার, ইনফ্রারেড লাইট সিস্টেমসহ খুব কঠিন পাহাড়ায়। অদৌ কি সেটা চুরি করা সম্ভব? কিশোর আগ্রহী প্রদর্শনীটা দেখতে। চিলড্রেন্স ডে এর সুবিধা নিয়ে হাফ টিকিটে প্রদর্শনী দেখতে গেলো তিন গোয়েন্দা। প্রথমেই দেখে নিলো চারপাশ। একটা দুর্বলতা চোখে পড়লো কিশোরের। কারেন্টের তারগুলো কাটা সম্ভব। কিন্তু তাতে কি চোরের খুব লাভ হবে? এলার্ম সিস্টেম ব্যাটারি সংযুক্ত। ভেতরে গিয়ে দেখলো রত্নটা কাঁচের ভেতর রাখা সবার নাগালের বাইরে। হঠাৎ হারটা ঘুষি মেরে কাঁচ ভেঙে নিয়ে যাওয়ার উপায় নেই। হারটার দাম বিশ লক্ষ আমেরিকান ডলার। বর্তমানে বাংলাদেশী টাকায় কত ১৬ কোটি প্রায়। নিরাপত্তা তো থাকবেই। আর এত নিরাপত্তার মাঝে চুরি করা নিশ্চয়ই সহজ হবে না। কিন্তু....
অসুস্থতার ভাণ করে গার্ডদের চোখ আকর্ষণ করলেন একজন। সেদিকে মনযোগ দিতেই অন্ধকার হয়ে গেলো ঘর। আর তারপর ঝনঝন একটা শব্দ। আর এলার্ম বেজে উঠলো। এলার্মে খুব লাভ হলো না। সে অবস্থায় সকলে এমনিই বুঝতে পেরেছিলো চুরি হচ্ছে। ঘরে কোন জানালা নেই। পালানো অসম্ভব। সবাইকে বেরিয়ে যাওয়ার আদেশ দেওয়া হলো এবং সবাইকে সার্চ করা হলো। কিন্তু না, রত্নহার মিললো না। একজন জাপানী টর্চ নিয়ে দেখলো, রত্নহার না চুরি হয়েছে অারেকটা দামী বেল্ট! অবাক হলো কিশোর পাশা। বেল্ট কেন? রত্নহার চুরি করাই তো সহজ আর দামী ছিলো। তার কাছে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ক্লু। সিকিউরিটি ইনচার্জকে কিশোর জানালো তারা সাহায্য করতে আগ্রহী। কিন্তু তিনজন কিশোর গোয়েন্দাকে আমলেই নিলেন না তিনি।
এরই মধ্যে আসলো আরেক রহস্য। মিস্টার ডেভিস ক্রিস্টোফার, সেই বিখ্যাত পরিচালকের ফোন। মিস শ্যানেল ভারনিয়া, একজন লেখিকা। তার বাড়িতে নাকি রত্নদানোর উৎপাত হয়েছে। কল্পনার বামন মানবাকৃতির জীব ওরা যারা সুরঙ্গ কেটে রত্ন খোঁজে। তাদের নাকি দেখা যায়। বিশ্বাস করেনি পুলিশ। তাই সাহায্য চেয়েছেন বিখ্যাত পরিচালকের কাছে।
রহস্য বা কেসের জন্য উদগ্রীব হয়ে ছিলো তিন গোয়েন্দা। খুশিই হলো তারা। রত্নের কেসের চেয়েও কঠিন কেইস মিলেছে। সেখানে গিয়ে মুসা পড়লো গেইটে লিখা মানুষ হলে বেল বাজাতে বলা হয়েছে, আর বামন, রত্নদানো, খাটোভূতদের শীষ দিতে বলা হয়েছে। বোঝা গেলো, এসবে বিশ্বাস আছে মহিলার। ঘরে ঢোকার কিছু পরে রবিনও একজনের দেখা পেলো। একটা রত্নদানো!
টোহা মুচামারু, সেই সিকিউরিটি ইনচার্জের ছেলে মিরো মুচামারু হঠাৎ হাজির হলো তিন গোয়েন্দার সাথে দেখা করতে। জানালো আগের দিন দুর্ব্যবহারের কারণে ক্ষমা চেয়েছেন বাবা। সেই বেল্ট এখনো খুজেঁ পাওয়া যায়নি। দুটো কেস মিললো তিন গোয়েন্দার। আর বলবো না। বললে গল্পের মজা নষ্ট হবে।
আমার মতামত: আমি ১০ এ ৭ দিবো এই বইটাকে। ফিনিশিংটা একটু কেমন লেগেছে। তবে হ্যাঁ, খুব খারপা না। অবশ্যই পড়ে দেখবেন। গল্পটার পিডিএফ দিলেও প্রকাশনার দিকটাও সবাইকে চিন্তা করতে বলবো। বাজারের যেকোন বইয়ের তুলনায় খুব কম দামে ২৫০-৩০০ পৃষ্ঠার তিন গোয়েন্দার একেকটি ভলিউম মাত্র ৫০-৮০ টাকার মধ্যে পাবেন। বাজারে না পেলে রকমারি ডট কম বা অন্যান্য অনলাইন দোকান থেকেও কিনতে পারবেন। অতএব, পিডিএফ ভালো লাগলে বইটি কিনে নিবেন। এই গল্পটি ভলিউম ১.২ এর ৩য় গল্প।

শেয়ার করুন

লেখকঃ

আমি দুইটি করে হাত, পা কান, চোখ বিশিষ্ট একজন মানুষ। নাম তাহমিদ হাসান মুত্তাকী। আমি একজন মুসলিম। বাংলাদেশের অধিবাসী। বয়স ১৫ বছর। নবম শ্রেণিতে পড়ি।। গ্রিন রেঞ্জারস+ এর প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। আমাকে ফেসবুকে পেতে এখানে যান।

Image result for facebook.icon 30x30   Image result for Google Plus.icon 30x30

পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট