বিজ্ঞানীদের সংক্ষিপ্ত জীবনকথা। জগদীশ চন্দ্র বোস ( পর্ব ১ )


বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীদের জীবনকথা ও তাদের আবিষ্কার নিয়ে ৫০ টি সংক্ষিপ্ত পর্ব লিখব বলে ঠিক করেছি। আমাদের বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষার্থী বন্ধুদের বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি এবং তাদেরকে অনুপ্রাণিত করাই আমার এই লেখনির লক্ষ্য। আজকে সিরিজের ১ম পর্ব এবং আজকে যার সম্পর্কে লিখব তার নাম জগদীশ চন্দ্র বোস ।

 

জগদীশ চন্দ্র বোস ১৮৫৮ সালের ৩০ শে নভেম্বর বাংলাদেশের মুন্সিগজ্ঞ জেলার বাড়িখাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতার হেয়ার স্কুলে পড়া শেষ করে সেন্টজেভিয়ার্স কলেজ থেকে বিএ ও এমএ পাশ করেন।এরপর তিনি লন্ডন মেডিক্যাল কলেজে প্রাণীবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা ও এনাটমী নিয়ে পড়াশুনা করেন।
১৮৮১ সালে ন্যাচারাল সায়েন্স উচ্চ সম্মান পাওয়ায় লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়  বিজ্ঞানীকে ডি. এস. সি. উপাধি দেয়। ১৯০৭ সালে ইংরেজ সরকার বোসকে নাইট উপাধি দেয়। ১৯৮৫ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞানে অধ্যাপণার মাধ্যমে বিজ্ঞান গবেষণায় জড়িয়ে পড়েন। বিদ্যুৎ তরঙ্গ নিয়ে বোসের করা গবেষণাটি "এসিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল " জার্নালে প্রকাশিত হলে জগদীশের খ্যাতি দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে।

জগদীশ চন্দ্র বোসের উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার সমূহঃ 
  •    ১৮৯৬ সালে বিদ্যুৎ তরঙ্গ বিষয়ক যন্ত্র আবিষ্কার করেন।
  • ক্রিষ্টাল বিসিভার ও গ্যালেনা রিসিভার।
  • উদ্ভিদের প্রাণ।
  • বেতার যন্ত্রের মাধ্যমে বার্তা প্রেরণ। ( তিনি তার এই আবিষ্কারের সিকৃতী পান নি কারণ তার আগেই আরেক বিজ্ঞানী জি মার্কনী এই পদ্ধতিতে বার্তা প্রেরণ করতে সক্ষম হন )
জশদীসের রচিত বইসমূহঃ
তিনি তার জীবদ্দসায় ১৫ টি বই রচনা করেন । এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য  হলো-
  • জীবিত ও জড়ের স্পন্দন।
  • রেজাল্ট রেকর্ডার।
  • ক্রেম্পোগ্রাফ।
  • ইলেক্ট্রনিক গ্লোভ।
তার রচিত কিছু বই বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
জগদীস চন্দ্র বোস সম্পর্কে জগতবিখ্যাত বিজ্ঞানী আইন্সটাইন বলেন "জগদীস চন্দ্র বোস যে সকল আমূল্য তথ্য পৃথীবিকে উপহার দিয়েছে তার যেকোন একটির জন্য তার নামে বিজয়স্তম্ভ স্থাপন করা উচিত" বুঝতেই পারছেন কোন মানদন্ড দিয়েই তাকে মাপা যাবে না।
এই মহান বিজ্ঞানী ১৯৩৭ সালের ২৩শে নভেম্বর পরপারে যাত্রা করেন।


শেয়ার করুন

লেখকঃ

পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট