‘১০ ডলারের রাউটার’ বাংলাদেশ ব্যাংকে


ব্যাংকটির কোনো ফায়ারওয়াল নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না এবং তাদের ব্যবহার করা রাউটারগুলো ছিল পুরনো ব্যবহৃত রাউটার, যেগুলো দিয়ে বৈশ্বিক আর্থিক নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হতে প্রতিটিতে খরচ হয় মাত্র ১০ ডলার।


উন্নত নিরাপত্তা এবং হার্ডওয়্যার সম্ভাব্য আক্রমণ বাধাগ্রস্ত করতে পারত বলে সরকারি এক তদন্ত কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স। হ্যাকারদের উদ্দেশ্য ছিল ১শ' কোটি মার্কিন ডলার হাতিয়ে নেওয়া, কিন্তু একটি ভুলের কারণে তারা চিহ্নিত হয় এবং তাদের থেমে যেতে হয়।


ফায়ারওয়াল হ্যাকারদের এই হ্যাকের চেষ্টাগুলোকে আরও ‘কঠিন’ করে দিতে পারত বলে রয়টার্সকে জানান চুরির তদন্তে বাংলাদেশের হয়ে কাজ করা তদন্তকারী মোহাম্মাদ শাহ আলম।


আলম বাংলাদেশ ব্যাংক হ্যাকিংয়ে সিআইডির তদন্ত দলে থাকা অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক।


পুরনো আগে ব্যবহৃত হার্ডওয়্যার ব্যবহার থেকে বোঝা যায়, নেটওয়ার্ক ট্রাফিকিংয়ের নিরাপত্তায় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, মন্তব্য বিবিসির।


সস্তা ‘সেকেন্ড-হ্যান্ড’ রাউটারগুলো তদন্তেও ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে বলেও জানান আলম। কারণ, হ্যাকার এবং তাদের কার্যপদ্ধতি বের করার ক্ষেত্রে এগুলো থেকে খুব সামান্যই নেটওয়ার্ক তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।


চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে হ্যাকাররা বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে। তারা ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অফ নিউ ইয়র্ক-এ বিশেষভাবে প্রবেশের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থ অন্যান্য ব্যাংকে স্থানান্তর করে।


অর্থ স্থানান্তরের সময় একটি বানান ভুল ব্যাংকের কর্মচারীদের সতর্ক করে দেয়। আর এর মধ্যেই হ্যাকাররা ৮ কোটি দশ লাখ মার্কিন ডলার হাতিয়ে নিতে সক্ষম হয়। এই অর্থের বেশীরভাগই ফিলিপিন্সের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে এবং সেখানকার ক্যাসিনোতে পাওয়া গেছে। অশিকাংশ অর্থই এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।


ব্যাংক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেটওয়ার্ক রক্ষায় ব্যাংকের আরও সময় এবং অর্থ ব্যয় করতে হবে।


সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান 'অপ্টিভ'-এর পরামর্শক জেফ উইচম্যান রয়টার্সকে বলেন, “আপনি এমন একটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে কথা বলছেন যাদের কোটি কোটি ডলার রয়েছে কিন্তু তারা নিরাপত্তা সতর্কতার কোনো ধরনের মৌলিক পদক্ষেপই নিচ্ছে না।”



সূত্রঃ বিডি নিউজ ২৪

শেয়ার করুন

লেখকঃ

পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট