ফেইসবুক ব্যবহার হালাল নাকি হারাম ? আমার মতামত...

১.

Image result for fb

বাঙালি বিতর্কপ্রিয় জাতি [এটা আমার অব্জারভেশন]। তারা মাঠে-ঘাটে স্কুল-কলেজ সব জায়গাতেই বিতর্ক করতে পছন্দ করে। হ্যা, এটি একটি ভালো দিক। বিতর্কের অনেক গুণ আছে, যেমনঃ ভাষার জড়তা দূর হয়, ফ্লুয়েন্ট কথা বলা যায়, যুক্তিবাদী হতে সাহায্য করে। কিন্তু একটা বাধাধরা বিষয় নিয়ে প্রতি বছর বিতর্ক করে গেলে বিতর্কের কি সুফল পাওয়া যায় তা আমার জানা নেই, যেমন বাঙালিরা মানে আমরা আগামী বছরজুড়ে কি নিয়ে বিতর্ক করবো তা বছরের শুরুতেই বলে দেয়া যায়...

১. thirty first December পালন করা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে পুরো জানুয়ারী মাস।
২. ফেব্রুয়ারী আসতেই নতুন বিতর্ক , 'ভেলেন্টাইন ডে' পালন করা নিয়ে।
৩. ২৫ মার্চকে কেন্দ্র করে পক্ষে-বিপক্ষে বিতর্ক চলবে পুরো মাস। 
৪. এপ্রিলের টপিক 'পয়লা বৈশাখ' কে নিয়ে।

   প্রতি মাসেই এরকম কোন না কোন টপিক আছে আর যেমাসে কোন টপিক পাওয়া যাবে না রেলমন্ত্রীর বিয়ে বা কন্যা হওয়ার মতো আজাইরা বিষয় তো আছেই। আর ফেইসবুক বিতর্ক বা আলোচনা সমালোচনার অন্যতম প্ল্যাটফর্ম। প্রতি বছরই আমরা একই বিষয় নিয়ে বিতর্ক করে যাচ্ছি। আমার ৪ বছরের ফেইসবুক জীবনে একবারো এর ব্যতিক্রম দেখিনি। 

আসুন বাধাধরা টপিক নিয়ে বিতর্ক না করে নতুন কোন সমস্যা বের করে বিতর্কের মাধ্যমে তার সমাধানের চেষ্টা করি। বি ইনোভেটিভ। :)

                                                           ২.
রমজান মাস আসতেই বিতর্কের টপিক ফেইসবুক ব্যবহার করা নিয়ে, হালাল নাকি হারাম? আমার মতে ফেইসবুক ব্যবহার করা নিঃসন্দেহে হারাম না কিন্তু কিছুকিছু ব্যক্তির কিছুকিছু কার্যক্রম হারাম হতে পারে। 'every creation has its two sides ,one is positive & lest one is negative' এই সহজ সত্যকে মেনেই আপনার চলতে হবে। 
 একই ফেইসবুক আইএস মানুষ মারার কাজে ব্যবহার করছে, নাস্তিকরা তাদের প্রচারের জন্য ব্যবহার করছে আবার অনেকে সচেতনেতামূলক পোষ্ট, কোরাআন হাদিসের বাণী দিয়ে আপনার উপকার করছে। ২টা কি এক হলো?
আপনি আপনার প্রোফাইলকে হারাম করবেন নাকি হালাল করবেন তা আপনার উপর ডিপেন্ড করে। কোনটা করবেন?

শেয়ার করুন

লেখকঃ

পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট
11:56 AM

আমার মতামত(বর্ধিতাংশ):
ফেসবুক অবশ্যই হালাল। ছুরি দিয়ে ফল কাটা অবশ্যই জায়েজ, মানুষ মারা নয়। কিন্তু এটা সত্য হাতে ছুরি নিয়ে থাকা বিপজ্জনক। তেমনি ফেসবুকও একটা বিপজ্জনক জায়গা। এখানে আপনাকে সাবধান থাকতে হবে। যাহোক, ফেসবুক হারাম হওয়ার জন্য কিছু যুক্তি আছে। সেগুলো দেখি-
১। ছবি হারাম। তাই ফেসবুকও হারাম।
এটা খুব দুর্বল যুক্তি। ছবি আঁকা হারাম, তোলা নয়। অবশ্য আলেমরা ফতোয়া দিয়েছেন প্রয়োজনে ছবি তোলা যাবে কিন্তু অকারণে তোলা উচিৎ না। কিন্তু তাও আপনি যদি প্রোফাইলে ছবি না দেন তাতেও তো সমস্যা নাই। আর ছবি দেখার প্রসঙ্গে যদি আসি, তবে বাস্তবে যা দেখা হারাম, ছবিতেও হারাম। মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থাকা হারাম। ছবির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। অশ্লীল ছবি হারাম। হয়ত বলবেন ফেসবুক চালালে এগুলো সামনে চলে আসে। এটা একটা উদ্ভট কথা। কারণ রাস্তায় হাঁটলে কি আসে না?? রাস্তার চেয়ে ফেসবুকেই এগুলো থেকে বেঁচে থাকা সহজ। কোন বাজে গ্রুপ আর পেজে এড থাকবেন না, লাইক দিবেন না। যেসব ফ্রেন্ডরা বাজে পোস্ট/ছবি দেয়, কিন্তু আনফ্রেন্ড করতে পারেন না, তাদের আনফলো করুন, ব্যাস! তাও যদি সমস্যা হয় 0.facebook.com তো আছেই।
২। মেয়েদের সাথে কথা বলা হারাম। তাই ফেসবুক হারাম।
সবচেয়ে উদ্ভট যুক্তি। আপনার ফ্রেন্ডলিস্টে মেয়েদের এড করেছেন কেন? বা তাদের সাথে চ্যাট করবেন কেন? এটা তো আপনার নিজের সমস্যা।
৩। সময় নষ্ট করে।
এটা কোন যুক্তিই না। কারণ আপনাকে ফেসবুকে এত সময় কেউ দিতে বলেনি।
আরো যুক্তি আছে। বাট কোনটাই যুক্তিসংগত না।

Reply
avatar
2:21 PM

ধর্মটাকে যেমন মানতে হবে, যুগের সাথে পা ফেলেও চলতে হবে। All Depends on our Mentality. একটা মেয়ের ছবি কি আমরা নেগেটিভলি দেখি, নাকি পজিটিভ মাইন্ডে দেখি? ডিপেন্ডস অন আওর মেন্টালিটি। মেন্টালিটী খারাপ হলে সেটা তার জন্য মাস্ট হারাম। আর সে যদি পজিটিভলি দেখে মতামত করে সরে যায়, এখানে বলার কিছু নেই।
এখন স্কুলে আমাদের মেয়ে সহপাঠীও আছে, লেখাপড়ার ঠ্যাকায় পরে অবসসই সকলের সাথে বন্ধুত্তের সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। এখানেও Mentality Matters! তুমি কি একটা মেয়ে বন্ধুর সাথে প্রেম করবা, খারাপ ভঙ্গিতে দেখবা, নাকি সাধারন সহপাথির মতো আচরন করবা বা নিজের বোনের মতো আচরন করবা, All Depends on mentality -_-

Reply
avatar
1:03 PM

যুগের সাথে তো তাল রাখতেই হবে। কিন্তু ধর্ম সবার আগে।

Reply
avatar