আইন্সটাইনের টাইম ট্রাভেল - সায়েন্স ফিকশান




গালের উপর সজোরে কিছু একটা পড়ল। পরক্ষণেই বুঝতে পারলাম এটা থাপ্পর ছিলো। ঘোমের ঘোরে থাকায় প্রথমে বুঝতে পারি নি। কিন্তু, থাপ্পরটা মারলো কে? বাসায় তো আমি একা। অন্য কারো কোন অস্তিত্ব থাকায় কথা না। রহস্য বুঝতে না পেরে ভয় পেয়ে গেলাম। ভুত-টূত কেউ নয় তো? “কিরে,চড় খেয়েও তোর ঘুম থেকে উঠার নাম নেই, কয়টা বাজে জানিস।” এরকম কর্কশ গলা শুনে সন্দেহটা আরো প্রবল হলো। ভূতে যদিও আমার বিশ্বাস আছে, কিন্তু বন্ধুদের সাথে ভাব মারার সময় প্রায়ই ভূতেদের নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে থাকি, আর বাসাও ফাকা, তাই বোধহয় আমার সাথে একটা বোঝাপোড়া করতে চায়। কথায় আছে না “চোরের দশদিন আর গৃহস্থের একদিন” । না, এখনকার পরিস্থিতির সাথে ঠিক মিলল না। হবে “আমার একদিন আর ভূতের একদিন।” “কত্ত বড় বেয়াদপ, দেখেছো? এখনো চোখ মেলে না” আবারো সেই কর্কশ গলা। বেয়াদবীর পাল্লা আর ভারি করতে চাই না। যেটুকু করেছি, তাতেই বোধহয় আমাকে জিন্দা রাখবে না। এরচেয়ে বেশি করলে মনে হয় মরার পরে আমাকেও ভূত-টূত বানিয়ে দিবে। তাও আবার যেন তেন ভূত না, মেছো ভূত। কাচা মাছ খেয়ে আজীবন বেচে থাকতে হবে। 






মনে একটু সাহস জোগার করে চোখ খুলে তাকালাম। একি!(?) মুখের সামনে আইনস্টাইন চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে। 


-স্যার , আপনি? এখানে? 


--অ্যাঁ, স্যার? এই বলদ, আমি তোর স্যার হইলাম কবে? আর এমন ভাব করতেছিস যেনো আমাকে কতদিন ধরে চিনিস। 


-মানে, আপনি আইনস্টাইন না? 


--হ্যা, বাপ-মা খুব শখ কইরা নাম রাখছিলো, কিন্তু তুই আমারে চিনলি কেম্নে? 


-কি বলেন স্যার... আপনাকে চিনে না এমন লোক দুনিয়ায় আছে নাকি? 


--শোন, ছোকরা তোমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। যাও তারাতারি ফ্রেশ হয়ে আস। তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে। 


আমার নিজেরই সন্দেহ হচ্ছে, সত্যিই কি আমার মাথা খারাপ খারাপ হয়ে গেছে? হতেও পারে,নইলে কি আর কেউ দিনের বেলা জেগে জেগে স্বপ্ন দেখে। হ্যলুসিনেশন হচ্ছে, মাথা খারাপের প্রথম ধাপ। যাই, হাত-মুখ ধুয়ে আসি। ঘোরটা কাটলেও কাটতে পারে। 


নাহ, ফিরে আসার পরও আইনস্টাইনকে দেখতে পাচ্ছি। স্যার এখন আমার পরার টেবিলে বসে বসে পা নাচিয়ে কিছু একটা পরছে। পরনে স্যারের লুঙ্গি আর খুব দামি একটা স্যুট, আর চুলের কথা নইবা বললাম। কিছু মনে করলাম না, বিজ্ঞানী মানুষ, সারা দিন গবেষনা করতে করতে নিজের প্রতি খেয়ালই রাখেন না। আইনস্টাইনের মতো লোকেদের কাছে এগুলো কোন ব্যপারই না। তাহলে কি সত্যিই আইনস্টাইন... আর ভাবতে পারলাম না। শিওর হওয়ার জন্য স্যারকে বললাম, 


-স্যার, আপনাকে একটু ছুয়ে দেখি? 


--ছুয়ে দেখবি, গা থেকে তো বোটকা এক ধরনের গন্ধ বের হচ্ছে, আসলে গত ৩ দিন গোসল করিনি তো, তাই। ছুয়ে দেখতে চাইলে দেখ। আমি কয়েক পা সামনে গিয়ে স্যারের হাতে হাত রাখলাম। নাহ, হ্যলুসিনেশন-ট্যলুসিনেশন কিচ্ছু না। তিনি দিব্যি এখানে বসে আছেন আর আমি তাকে ধরে আছি। ময়লা জমতে জমতে স্যারের ত্বক আঠালো হয়ে গেছে। অনেকদিন গোসল না করলে যাহয় আরকি। তাতে কি, আইনস্টাইনকে ছোয়া দেখার মতো সৌভাগ্য কয়জনের হয়? আমি হলপ করে বলতে পারি, এখন পৃথীবিতে এমন কোন মানুষ বেচে নেই যে আইনস্টাইনকে বস্তবে দেখেছে , ছুয়ে দেখা তো অনেক দুরের ব্যপার। কিন্তু গত হয়েছেন অনেক বছর আগেই, এখন এখানে কিভাবে, কেন... 


--কিরে, ছাড়। আর কতক্ষণ ধরে রাখবি? 


স্যারের সেই কর্কশ ভোকাল শুনে ভাবনায় ছেদ পড়ল। 


-না, মানে ঠিক বিশ্বাস হচ্ছে না। 


--না হওয়ারই কথা। শোন, একটা বিরাট আবিষ্কার করে ফেলেছি। এখন আমি বিখ্যাত হয়ে যাব রে। 


-স্যার, আপনার সব আবিষ্কারই তো বিখ্যাত। 


--আরে, সব পাইলি কই? করলামই তো একটা। 


আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই স্যার বলে গেলেন 


--একটা টাইম মেশিন পেয়ে গেছি। 


-ওয়াও ! গ্রেট, এটা আপনার নতুন আবিষ্কার ?(!) 


--আরে নাহ। এটা তৈরী করেছিলো আমার বড় ভাই জগাদা। সহজ-সরল আর আর প্রচন্ড ভীতু বলে ডিভাইসটা এক্সপেরিমেন্ট করে দেখার সাহসও পায়নি। মনে শুধু সংশয় ছিলো “যদি অতীত বা ভবিষ্যতে গিয়ে আর ফিরে আসতে না পারি” । এখন তিনি বেচে নেই। তাই এটা এখন আমার। এর সাথে একটা নোটবুক ছিলো, যাতে টাইম মেশীনটায় কিভাবে কি করতে হয় সব লেখা ছিলো। ভাবলাম, যাই একবিংশ্ব শোতাব্দী থেকে একটু ঘুরে আসি, নিজের জীবদ্দসায় তো আর দেখতে পাবো না। প্রথমেই গেলাম স্টিফেন হকিঙ্গের কাছে। ব্যটা তো আমাকে দেখেই ফিট। আরে বুঝিস না, যা চুল রেখেছি, চুল দেখেই বোধহয় ফিট হয়ে গেছে। 


-না, স্যার। আপনার চুল দেখে ফিট হয়নি। আপনার মতো একজন বিজ্ঞানীকে চোখের সামনে দেখতে পেয়ে ফিট হয়ে গেছে। 


--কি? আমি বিজ্ঞানী? 


-হইছে, স্যার। আর মজা কইরেন না। 


--আরে হাদারাম, আমাকে একটু ক্লিয়ার করে বলতো(!) 


-থিওরি অব রিলেটিভিটির কথা আপনার মনে নেই? 


--কি বললি? লিরেটিভিটি না কি যেনো? 


-থিওরি অব রিলেটিভিটি। 


-ওও, হ্যা, মনে পড়েছে। এই নামে তোর পড়ার টেবিলে মুহাম্মদ জাফর ইকবালের একটা বই দেখলাম। সাথে আমার ছবিও আছে। ভিতরে কিসব আজগুবি কথাবার্তা লেখা, কিচ্ছু বুঝতে পারি নি। তুই যখন ফ্রেশ হতে গেলি তখন ঐটা নিয়েই নাড়াচাড়া করছিলাম। ব্যপারটা কি, একটু ঝেরে কাশ তো... 


স্যারের মুখ দেখে এবার আমার সত্যিই মনে হলো স্যার বোধহয় কিছু জানেন না। কিন্তু, তা কি করে হয়? 


যাইহোক, এতসব সাতপাচ না ভেবে স্যারকে থিওরি অব রিলেটিভিটি বুঝাতে লাগলাম। 


স্যার, কোন প্রশ্ন করবেন, খুব কঠিন একটা থিওরি, কথা বললে বুঝলাম না। এরপর আমি আমার পান্ডিত্ত দেখানোর সুযোগ পেয়ে খুশি হয়ে গেলাম। বলতে লাগলাম... 


-থিওরি অব রিলেটিভিটির ২ টি টার্ম। 


১)স্পেশাল থিওরি অব রিলেটিভিটি 


২)জেনারেল থিওরি অব রিলেটিভিটি। 


স্পেশাল থিওরি অব রিলেটিভিটি গড়ে উঠেছে ২ টি প্রধান সূত্র দিয়ে। 


১)পদার্থবিজ্ঞান সূত্র সব জায়গায় এক। 


২)আলোর বেগ সব জায়গায় সমান। 


এরপর আস্তে আস্তে intertial reference frame, আপেক্ষিক সময়, দৈর্ঘ্য সংকোচন, লরেন্টজের রূপান্তর, লরেন্টজের রূপান্তরের ব্যবহার, আপেক্ষিক ভর, স্থানাংক রূপান্তর বুঝালাম। 


সব শুনে আবাক হয়ে স্যার বললেন, --এই থিওরিটা আমার? 


-অবশ্যই, এখন মনে পড়েছে? 


--সত্যি কথা বলতে আমি এখনো এই থিওরিটা আবিষ্কার করি নি, কিন্তু... শান্ত স্বরে এবার বোমাটা ফাটালেন স্যার। 


--এখান থেকে ফিরেই আমি এই থিওরিটা আবিষ্কার করবো। 


কথাটা শুনে আমার মাথা ঝিমঝিম করছে, সারা শরীর ঠান্ডা হয়ে আসছে। আইনস্টাইন থিওরি অব রিলেটিভিটি কিভাবে আবিষ্কার করেছিলেন , তা এখন আমার কাছে পরিষ্কার। 


স্যার ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আমি পকেট ঠেকে স্মার্টফোনটা বের করে স্যারের সাথে একটা সেলফি তুলতে চাইলাম। স্যারও রাজি। স্যার দাত কেলিয়ে হাতে V (Victory) চিহ্ন দেখিয়ে পোজ দিলেন। স্যার আর দেরি করলেন, টাইম মেশিনে বসেই উধাও। 


সেলফিটা ফেইসবুকে আপলোড করলাম। জানি, সত্যি কথা কেউ বিশ্বাস করবে না। তাই ক্যাপশন দিলাম 

“Hater’s will say, this is also photoshop!!” 


পুনশ্চ = ১)তোমরা কি খেয়াল করেছ গল্পে একটা প্যরাডক্স আছে। গল্পানুযায়ী আমি কিন্তু থিওরি অব রিলেটিভিটি বা আপেক্ষিক তত্ত্ব মুহাম্মদ জাফর ইকবালের বই থেকে জেনেছি। তিনিও হয়তো তার কোন স্যার বা কোন বই থেকে জেনেছেন। এভাবে পালাক্রমে দেখা যাবে থিওরিটা আলবার্ট আইনস্টাইনই সবার আগে বলেছেন। কিন্তু আইনস্টাইনতো তত্ত্ব টা আমার কাছ থেকে জেনেছেন। গোলমালটা ধরতে পারছতো। তাহলে এবার চিন্তা করে দেখ টাইম মেশিন তৈরী হবার সম্ভাবনা কতটুকু আর কোনভাবে তৈরী হয়ে গেলে তার ঝুকিটা কত বেশি। 



২) গল্পে আমি বলতে কিন্তু আমার নিজেকেই (সিয়াম) বুঝিয়েছি। আমি কিন্তু থিওরি অব রিলেটিভিটইর তেমন কিছুই জানি না। গল্প চালিয়ে নেয়ার জন্য নিজেকে খুব ট্যলেন্টেটভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। :P


শেয়ার করুন

লেখকঃ

পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট
11:37 AM

ভাই, তুই ঝাক্কাস একটা সাইন্স ফিক লেখসিস। আইনস্টাইনও ফিট খেয়ে যাবে :D

Reply
avatar
5:31 PM

ও বাইচা থাকলে আমার নামে মানহানির কেস করতো।

Reply
avatar
3:39 PM

হাহাহা !!!

Reply
avatar
9:33 AM

আর তোমার ফাঁসি হত।

Reply
avatar