রিসিস্টরের মাণ নির্ণয়ের সূত্র ও নিয়ম

রোধের কথা আমরা সবাই কম বেশি শুনেছি, পড়েছি, অনেকেই স্বচক্ষে দেখেছিও। যারা বিজ্ঞান বিভাগে বর্তমানে পড়াশোনা করছি, তাদের এটা আরো বেশি শোনার কথা।

প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ডের ওপর রোধ বা, রিসিস্টর



এখন বলি, রোধ বা, রিসিস্টর হলো এমন একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ যা তড়িৎ প্রবাহে বাধা প্রদান করে।
এর মান প্রকাশ করা হয় ওহম দিয়ে, কেননা, পদার্থবিজ্ঞানী জর্জ সাইমন ওহম পদার্থের এই তড়িৎ প্রবাহে বাঁধাদানের সুত্র আবিস্কার করেন।

বর্তমানে বাজারে নানা মানের রোধ বা, রিসিস্টর পাওয়া যায়। এই মান বের করার জন্য রোধের গায়ে কিছু রঙের ব্যান্ড দেওয়া থাকে, একে আমরা সোজা বাংলায় পট্টি বলে থাকি।

এই রঙ গুলোর মানে আছে। নিচের এই চার্ট দেখেই ঘাবড়ে যাবে না, আরও অনেক জানার বাকি, বলছি দাড়াও...


কালার কোডের চার্ট


































একটা রোধের প্রথম ব্যান্ড থেকে গোনা শুরু করলে,
  1. মানের প্রথম অঙ্ক
  2. মানের দ্বিতীয় অঙ্ক
  3. গুণক
  4. শুদ্ধতার মান
এইগুলি থেকেই আমরা একটি রোধের মান নির্ণয় করতে পারি। কিভাবে?

এবার আমাদের অঙ্ক করতে হবে :p 

ধরি, আমাদের একটা রোধ আছে যার উপর কালার কোডগুলো হলো Brown, Yellow, Red এবং Golden 
এবার আমরা কালার কোডের চার্ট থেকে মানগুলো বের করে নিই।
  • প্রথম ব্যান্ডের জন্য Brown এর মান 1 
  • দ্বিতীয় ব্যান্ডের জন্য Yellow এর মান 4 
  • তৃতীয় ব্যান্ডের জন্য গুণক Red এর মান 102 বা 100 
  • চতুর্থ ব্যান্ডের জন্য Golden এর শুদ্ধতার মান ±5% (মানে পাঁচ শতাংশ কম বেশি হতে পারে) 
প্রথম দুই ব্যান্ডের অঙ্ক কার্যত একটি সংখ্যা নির্দেশ করে। 
মানে, Brown এবং Yellow = 14 
তাহলে রিসিস্টরের মান হয়, 14 × 102 ± 5%

সর্বোচ্চ মাণ = 1470 Ω বা, 1.47 Kilo Ohm 
সর্বনিম্ন মাণ = 1330 Ω বা, 1.33 Kilo Ohm

নোটঃ
রোধ বা, রিসিস্টর পাঁচ ব্যান্ডের হলে এর প্রথম তিনটি ব্যান্ডের মানের অঙ্ক একটি সংখ্যা নির্দেশ করবে এবং ছয় ব্যান্ডের হলে প্রথম চার ব্যান্ডের মানের অঙ্ক একটি সংখ্যা নির্দেশ করে।


এবার আমরা যদি অঙ্ক না করে মাণ নির্ণয় করতে চাই তবে... তবে আমার ওয়েব অ্যাপলিকেশনটি ব্যাবহার করতে পারো, কিংবা অনলাইনে অনেক অ্যাপ আছে সেগুলো ব্যাবহার করতে পারো।
আমার রিসিস্টর ক্যালকুলেটরের লিঙ্ক, app.grplusbd.net/resistor-calculator

আমি শখের বশে ওয়েবসাইট অ্যাপ্লিকেশান ডিজাইন করি, তাও এটা এখন আমার নেশা হয়ে গেছে।


এবার আমার আরেকটা নতুন ওয়েব অ্যাপ এলাম, এবার তোমরা এই ওয়েব অ্যাপলিকেশন ব্যাবহার করে সহজেই কোনো ইলেক্ট্রনিক সার্কিট বোর্ডের বা অন্য যেকোনো ধরনের কার্বন ফিল্ম রিসিস্টরের মান নির্ণয় করতে পারবে। এটি মূলত ইলেকট্রনিক্স প্রফেশনাল, হবিস্ট এবং স্টুডেন্টদের জন্য ডেভেলপ করা, আমি নিজেই একজন হবিস্ট, তাই এইটি ডেভেলাপ করার চিন্তা মাথায় আসে, এখন এর ১.১ ভার্সন চলছে। আপডেট ও চেঞ্জ লগ লক্ষ করতে আমার ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক গিটহাবের আইডি দেখতে পারো, blog.grplusbd.net/2016/10/resistor-calculator.html#github


অ্যাপটি ব্যবহার করে দেখতে পারো, আছে আমাদের টিম জিআর+ এর সার্ভারেই!
app.grplusbd.net/resistor-calculator


আমি পুরো প্রোগ্রামিং করতে জাভাস্ক্রিপ্ট স্ক্রিপ্টিং ব্যাবহার করেছি।
এখানে জাভাস্ক্রিপ্টে লেখা স্ক্রিপ্ট ভিন্ন ভিন্ন ফাংশানে লেখা আছে, যখন ইউজার রঙ নির্বাচন করে, তখন এই ফাংশানগুলো এইচটিএমএল ‘অন চেঞ্জ’ অ্যাাট্রিবিউট দিয়ে কল করা হয়। তখন ঐ ফাংশনটি কালার অনুযায়ী ইন্টিজার ভ্যালু ইনপুট নেয়, কারন সিলেক্ট ট্যাগের মাধ্যমে রঙ ইউজার দেখতে পেলেও ভ্যালু হিসেবে ইন্টিজার ভ্যালু দেয়া আছে।

আর ফাংশনটি তখন কালার কোড ক্যালকুলেট করে আউটপুট দেয়, এবং এখানে আমি আরেকটি ফাংশন লিখেছি যেটা অনেক সহজ, যে কোনো ডেভেলপার এটা করতে পারবে, এইটা দিয়ে আমি রিসিস্টরের ছবি সিমিউলেশান করে দেখিয়েছি অ্যাপের ভেতরে, এর গ্রাফিক্সটা তৈরি হয় মূলত ক্যানভাস এবং সিএসএস দিয়ে।
এতে তিনটি ক্যালকুলেটর আছে, যা ৪, ৫ এবং ৬ পট্টি বা ব্যান্ডের রিসিস্টর কাউন্ট করতে পারে এবং মাণ নির্ণয় করতে পারে।
আছে একটা রেফারেন্স পেজ যাতে তুমি রিসিস্টর সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য পাবে। এছাড়া এটা রেস্পন্সিভ ডিজাইন হওয়ায় তুমি যেকোনো ডিভাইসে সাচ্ছন্দে ব্যবহার করতে পারবে।

শেয়ার করুন

লেখকঃ

আমি তাওসিফ তুরাবি, অনলাইনাম (অনলাইন + নাম) ব্লগার তাওসিফ। এখন, ২০১৬ পর্যন্ত আমি ১৬ বছরের এক কিশোর। পড়াশোনা করি শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজে। টেক ব্লগ লিখতে ভালবাসি। সাইন্স ফিকশন আর গল্প লিখতে পছন্দ করি।  জিআর+ ব্লগের এর একজন প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডমিন।
আমাদের একটা ওয়েব ডেভেলপার ফার্ম আছে যার নাম জিআর+ আইটি বাংলাদেশ
এছাড়া আমার ব্যাক্তিগত ব্লগ রয়েছে। আমার ফেসবুক আইডিতে আমার সাথে সর্বক্ষণ যোগাযোগ করতে পারবেন। 


পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট